‘সুরুল সরকারবাড়ি’ বাংলার ইতিহাসের বুকে এক অনন্য গৌরবময় অধ্যায়—এক প্রাচীন, ঐতিহ্যবাহী ও অভিজাত জমিদার বংশের রাজকীয় স্মারক। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই মহীয়ান পরিবার গ্রামীণ বাংলার সমাজজীবন, সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক বিকাশে অসামান্য অবদান রেখে এসেছে। সরকার বংশের সুপ্রাচীন ইতিহাস বহু গবেষণাপত্র, গ্রন্থ ও সাময়িকীতে শ্রদ্ধাভরে আলোচিত এবং সুপ্রতিষ্ঠিতভাবে নথিভুক্ত রয়েছে।
এই এস্টেটের অপরূপ রাজকীয় স্থাপত্যশৈলী,
বিস্তৃত প্রাঙ্গণ এবং ঐতিহাসিক আবহ একে যুগে যুগে বিশেষ মর্যাদাসম্পন্ন স্থানে পরিণত করেছে। প্রাসাদোপম এই জমিদারবাড়ির অন্দরমহল ও প্রাঙ্গণ চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রেও হয়ে উঠেছে এক অনন্য আকর্ষণ। গহনা বাক্স, বাঁশিওয়ালা, শেষ সংঘাত, প্রতিমা, দত্ত, নীল সংকেত, চতুরঙ্গ, হীরক জয়ন্তী, পদ্মী পিসির বর্মি বাক্স, বলিদান, লালু ভুলু, বারো থেকে আঠারো সহ অসংখ্য কালজয়ী চলচ্চিত্রের চিত্রায়ণ এই ঐতিহ্যবাহী প্রাঙ্গণেই সম্পন্ন হয়েছে।
একসময় বাংলার বিস্তীর্ণ প্রান্তরে বহু জমিদার বংশের অস্তিত্ব থাকলেও কালের নির্মম প্রবাহে তাদের অনেকেই আজ ইতিহাসের অতলে হারিয়ে গেছে। কিন্তু সরকার পরিবার পারিবারিক ঐক্য, আস্থা, ধর্মবিশ্বাস এবং সমাজের প্রতি গভীর দায়বদ্ধতাকে ধারণ করে সময়ের সমস্ত পরীক্ষায় অবিচল থেকে নিজ ঐতিহ্য ও মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে সক্ষম হয়েছে।