22/04/2026
প্রসঙ্গত প্রিন্স.....লেখকের পেজ থেকে,,,,,
অনেক দর্শক আমাকে প্রশ্ন করেছেন আমি এই গল্প আসলে কই পেয়েছি...তাদের জন্য মজার একটা গল্প বলি আমি....
সিনেমাতে আপনারা একটা চরিত্র দেখেছেন...যার নাম ছিলো ভুট্টো...অভিনয় করেছে শরীফ সিরাজ।
এই চরিত্রটা সত্য একটা চরিত্র থেকেই নেয়া হয়েছে।
সত্যিকারের মানুষটার নাম ছিলো কাজেম আল কাশেম উরফে ভুট্টো।
সে ছিলো আমার জেল পার্টনার।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলাম আমি। সেই হিসেবে জেল খাটা ছিলো অবধারিত। জেল খেটেছিও।
এই জেলেই ১০ সেল এ আমার সাথে পরিচয় হয় পিচ্চি হান্নান, পিচ্চি হেলাল, সাহেব আলী, কালা ফারুক, টাইগার আনু, টিটন, তপু , সুইডেন আসলাম, ব্যাঙ্গা বাবু, নেপালী বাবু , রোজেন, রিভেন, হাসু, রাসু থেকে শুরু করে আরো কতো গ্যাঙ্গষ্টারের।
ভুট্টো ছিলো ততকালীন সময়ের ক অদ্যক্ষর নামের একজন গ্যাঙ্গষ্টারের বডিগার্ড। ভুট্টো আর আমি ক্রিকেট খেলতাম জেলে। নারকেলের ডোগলা দিয়ে বানিয়েছিলাম ব্যাট...ভাত খাওয়ার বড় ট্রে ছিলো আমাদের ষ্ট্যাম্প আর বাইরে থেকে ট্যাপ টেনিস নিয়ে এসেছিলাম। সকাল থেকে গোসলের আগ পযন্ত আমরা ক্রিকেট খেলতাম। তারপরে সবাই মিলে চৌবাচ্চাতে গোসল করতাম।
ভুট্টো আমাকে আন্ডারওয়াল্ডের নানারকমের গল্প শুনাতো।
রাতে রুমে সাহেব আলী আর কালা ফারুক ভাই নানারকমের কথা শুনাতো। আন্ডারওয়াল্ডে কে কাকে খাচ্ছে....? কেনো খাচ্ছে? কার বিরুদ্ধে কে গুটি করছে। মেশিন কার কাছে কতো ইত্যাদি।
আমার সাথে বর্তমান পুরান ঢাকার বি এন পি নেতা ইসহাক সরকারের বড় ভাই ইয়াকুব সরকারও জেলে ছিলো।েইয়াকুব ভাই খুবি মজার মানুষ ছিলেন।
রাতে এই শহরের অপরাধ জগতের নানা গল্প জমতো। আমি শুনতাম। শুনতাম বললে ভুল হবে...আমি গিলতাম বসে বসে। আমি ছোট মানুষ। সবাই আমাকে সুইট কিউট ছোট ভাই হিসেবেই ট্রিট করতো।
যেদিন তাদের শুনানি থাকতো সেদিন তারা কোর্ট থেকে ফেরার পথে ভার্জিনের বোতলে করে ফেন্সিডিল নিয়ে আসতো। প্রথমে আমি বুঝি নাই ভাবছি কোক। পরে দেখি সব ফেন্সিডিল। আমার কাছে জমা থাকতো। কারণ আমি তখন চা, সিগ্রেট কিছুই খেতাম না। খেলাধুলা করতাম আর নিয়মিত জিম করতাম। সবগুলিকে ধরে ধরে ব্যায়াম করাইতাম। হা..হা..হা....
জেল থেকে বেরিয়ে কিছুদিন পরেই আমি ঢাকা ভার্সিটি ছাত্রদলের হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হল এর সভাপতি হয়ে যাই। ...আমার সাথে আন্ডারওয়াল্ডের ভাই বাদারদের আরো যোগাযোগ বেড়ে যায়। তারা নিয়মিত আমার সাথে দেখা করতে আসতো। তাদের ছোট ভাই নেতা। তারা প্রাউড ফিল করতো।
এর মধ্যে অপারেশন ক্লিনহার্ট চলে এলো। আন্ডারওয়াল্ড সাফা হওয়া শুরু হলো। অপারেশন ক্লিন হার্টের পরে তারা আবার সংগঠিত হওয়া শুরু হলো।
আমার পরিচিত এক বড় ভাই এর বাড়ির কাজ শুরু হলে তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাদা দাবী করলো এক টপ টেরর। বড় ভাই আমাকে বললো মেজবা এটার একটা সুরাহা করে দেও। ....আমি যাবো যাবো ভাবতেছিলাম....এর মধ্যে আমার বাসা থেকে মোটর সাইকেল চুরি হলো। সব মিলিয়ে আমি রেগে মেগে আন্ডারওয়াল্ডের ভাইদের ফোন দিলাম। দেখা করতে চাই....
তারা আমাকে গুলশানের টপকাপি নামে একটা রেষ্টুরেন্টে দেখা করতে বললো। টপকাপি রেষ্টুরেন্টের পিছনের দিকে গিয়ে দেখি ঢাকার সমস্ত আন্ডারওয়াল্ডের সব টপ রংবাজরা এক হয়েছে ঢাকা ভাগ করার জন্য।
অপারেশন ক্লিন হার্টের পরে সিনিয়ার টপ টেরররা সব পলাতক। ভাগ এখন জুনিয়র রা নিতে চায়।
মাছের বাজারের মতো ভাগ হচ্ছে কাওরান বাজার, গুলশান, মতিঝিল, সায়দা বাদ। সে এক তুঘলকি কারবার। হঠাৎ করে সেখানে সরকারী হুলিয়া জারি হওয়া এক টপ টেরর হাজির হয়। ঢাকা ভাগ হচ্ছে। সে সবাইকে গালাগালি করতে থাকে। উত্তেজনা....হাতাহাতি....
প্রিন্স এর গল্প এখান থেকেই শুরু করেছিলাম....
চিত্রিত করতে চেয়েছিলাম অপারেশন ক্লিনহার্ট এর কারণ ...থেকে শুরু করে উত্তরা গরীবে নেওয়াজ এভ্যুনিউর ২ নাম্বার বাড়িতে র্যাব এর প্রথম ক্রসফায়ার দিয়ে আন্ডারওয়াল্ডের কবর রচনার শুরু।
ও হ্যা ভুট্টোর পরিণতি বলেই শেষ করছি। ভুট্টো পরে র্যাব এর সাথে ক্রসফায়ারে নিহত হয়। খুব কষ্ট পেয়েছিলাম তার মৃত্যুতে।
আন্ডারওয়াল্ডের একটা অপারেশনে গিয়ে তার পায়ে গুলি লাগে। সে একটু খুড়িয়ে খুড়িয়ে হাটতো।
ক্রিকেট খেলার সময় দৌড়ে রান নিতে পারতো না প্রায়ই ..... রান আউট হতো বলে আমি খুব চিল্লাচিল্লি করতাম ভুট্টোর উপরে। .... আহা ভুট্টো....বেচারা....আমার বন্ধু ছিলো....শরীফ সিরাজের চেহারা তার সাথে অনেকটাই মিলে যায়।