06/03/2018
আমি একজন ছোট ইন্টারনেট ব্যবসায়ি।অনেক ইন্টারনেট গ্রাহক ফেইসবুকের অনেক পেইজে কাস্টোমার সাপোর্ট নিয়ে কমপ্লিন করছে। আজ তাদের উদ্দেশ্যে নিজ অভিজ্ঞতার আলোকে কিছু কথা বলবো। দয়া করে সকল গ্রাহক রা পড়বেন। আপনাদের একটা প্রস্তাব দিতে চাই। আপনারা অনেকে অনেক ধরনের পেশায় আছেন, তবে অনুরোধ রইলো আপনার কর্মস্থল থেকে ৭ দিনের ছুটি নিয়ে আমার কাস্টোমার সাপোর্ট এর পাশে বসে থাকবেন। বিনিময়ে আমি আপনাকে ভালো অংকের একটা সম্মানিও দেব যদি আপনি হাসি মুখে ধৈর্যের সাথে থাকতে পারেন। আপনাকে আমি চ্যালেঞ্জ করছি, ৩ দিন পরেই আপনি কাউকে বকা দিয়ে ফেলবেন এমনকি মারতে যেতেও পারেন। তখন আর কাস্টমার সাপোর্ট নিতিবাক্য মুখ দিয়ে বেরোবে না। গ্রাহকের যেসব কথা আপনাকে শুনতে হবে,,,,,,,,,,,,
১। সারাদিন দিন পরিশ্রম এর পরে রাত একটায় ঘুমিয়ে পড়তেই ফোন দিয়ে বলবে "ভাইয়া আপনাদের FTP ADDRESS টা কত?
২। ৮০ বছরের বুড়ো বলবে ভিডিও বাফার করছে কেন? জিজ্ঞাসা করায় সে জানালো youtube থেকে দেখসি, এই কথায় শুনলে মনটা চায় কচু গাছের সাথে গলায় দড়ি দেই, ৫০ Mbps youtube ব্যান্ডুইথ দেয়ার পরও নাকি ভিডিও বাফার করে! পরে log server ঘেটে দেখি সে youtune নয় পর্ন মুভী দেখে। কি করতে মনটা চায়। যাই হোক সমাধানতো দিতে হবে, তাই বললাম Uncle আপনি সানি লিওয়নের যে নতুন ভিডিওটা দেখছেন সেটা বাফার ছাড়া দেখতে কমপক্ষে ৫ এম বি ব্যন্ডউইথ লাগে, যা পেতে হলে আপনার প্যাকেজ আপগ্রেড করতে হবে এতে মাসিক বিল বাড়বে। এরপরই সে আমাকে পেয়ে বসলো, যা খুশী তাইই বললো।
৩। রাত ১০ টার পরে স্টাফদের ছুটির পরেই কেউ ফোন দিয়ে বলবে এখনি লাইনটা ঠিক করে দেন প্লিজ! না দিলেই সার্ভিস খারাপ। কি করা উচিত তখন?
৪। ৫০০ টাকার একটা লাইন নিয়া আপনার তো প্রথম ১/২ মাস ভালোই চলে কারন প্রথম কয়েকদিন ওয়াইফাই পাসওয়ার্ড অন্য কাউকে দেন নাই, এরপর ই ভাই ব্রাদার বানানো শুরু করলেন, পাশের বাসার আন্টিকেও আজকাল আপু ডাকা শুরু করলেন, উপড় তলার ভাইয়ার সাথে আবার বিলের কিছু টাকা শেয়ার করা শুরু করলেন। আবার দেখা যায় আপনার ভাই ব্রাদার রা মোবাইল রুট করে পাসওয়ার্ড বের করে আরেকজনের মোবাইলে দিচ্ছে। আজকাল দেখি ছোট বাচ্চারাও ওয়াইফাই হ্যাক করতে ওস্তাদ, সমাধান করতে গিয়ে যদি বলি ভাই ম্যাক লক করে চালাতা হবে, তাহলে আবার আপনি রাজি হননা, কারন তাহলে আবার ভাই, আন্টি, বন্ধু এরা আর পাবে না। কিন্তু লাইনটা স্লো হোলেই ফোনে যে ভাষায় কথা বলেন তাতে মনে হয় ৫০০ টাকা দিয়া পুরা ISP টাই কিনে ফেলছেন।
৫। এবার আসেন কল সেন্টার প্রসংগে, আপনি ফোন দিয়ে স্লো কমপ্লিন করলেন, সেখান থেকে বললো আপনি ৩/৪ এম বি করে পাচ্ছেন। আপনি বললেন আরে ভাই আমি তো ফেইসবুকটাই ওপেন করতে পারছি না, কোথায় ৩/৪ এম বি চালাই, ফাইজলামি পাইছেন নাকি? আপনি কি জানেন কল সেন্টারের মানুশ গুলোর সামনে একটি অপারেটিং সিস্টেম চালু থাকে যা আপনি কত স্পিডে ডাটা টানছেন, কতক্ষন যাবত লাইনে আছেন, কখন সর্বশেষ ব্যবহার করেছেন, সবকিছুই দেখায়। কল সেন্টার সেটা দেখেই আপনাকে বলে, এতে মিথ্যার কিছু নাই, কিন্তু আপনি জেনে বা না জেনে হোক, বুঝে বা না বুঝে হোক ভুল বা মিথ্যা বলছেন। কারন আপনি জানেন না যে আপনার বা আপনার ভাই বা আপনার বোন বা আপনার ঘরের কারো পকেটে থাকা WiFi চালু করা Android ফোনটি আপডেট নিচ্ছে সম্পূর্ণ গতি ব্যবহার করে। আর তখনি আপনি স্লো কানেকশন পাচ্ছেন। এখন আপনার ঘরের কোন ডিভাইসটি ব্যান্ডউইথ টানতেছে এটাতো আর কল সেন্টার থেকে বলতে পারবে না। আপনাকে জিজ্ঞাসা করায় আপনি আবার বলেন "অসম্ভব আমি তো একাই চালাচ্ছি" তখন আপনার বাসায় লোক পাঠানোর পড়ে গিয়ে যদি দেখি প্রায় ১৬ টা ডিভাইস কানেক্টেড। যে ছেলেটা আপনার বাসায় গিয়েছে সে সারাদিন পরিশ্রম করে ৬/৭ তলা সিড়ি বেয়ে এই দৃশ্য দেখার পরে তার মেজাজ টা কেমন লাগতে পারে বলেন তো। পরবর্তিতে ওই ছেলে আপনার এই ধরনের সমস্যা সমাধান করতে যেতে অনিহা দেখাবে এটাই স্বাভাবিক।
৬। আরো ২ টা ব্যপার আছে রাউটার এবং ব্যান্ডউইথ। যখন আমরা রাউটার কিনি প্রথমেই পছন্দ করি কমদামি টা, আমরা মনে করি ভালো রাউটার মানেই ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা এর মধ্যেই। আসলে মিথ্যা কথা। নুন্য তম মানের রাউটার কিনতে হলেও ৪/৫ হাজার টাকা মুল্যের কেনা উচিত যেমন ধরেন CISCO, MIKROTIK এর WiFi রাউটার। এগুলো ভালো মানের। একবারো কি ভেবে দেখেছেন ৯০০/১০০০ টাকার রাউটার আর ৪/৫ হাজার টাকার রাউটার এর Wifi Range একই, কাজ করে একই, তাহলে দামে এত পার্থক্য কেন? এই কম দামি রাউটার গুলোর কারনেই ৫০% কমপ্লিন তৈরী হয়। এটাও আপনারা মানতে নারাজ।
৭। এবার আসেন ব্যন্ডউইথ প্রসংগে,
ধরেন আপনি একটি কানেকশন নিতে চাচ্ছেন, ১ম ব্যবসায়ি আপনাকে বললো ১০০০ টাকা সার্ভিস চার্জ, আপনি চলে গেলেন। ২য় ব্যবসায়ি আপনাকে বললো ৫০০ টাকা সার্ভিস চার্জ, তাও আপনি নিলেন না, ৩য় ব্যবসায়ি ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতার কারনে আপনাকে বললো ফ্রি সার্ভিস চার্জ। আপনি ও প্রতিযোগিতার বাজারের এই ফায়দা টা নিয়ে নিলেন, একবারো ভাবলেন না আপনার সংযোগ দেয়ার জন্য এই লোকটা কোন কোয়ালিটির কেবল ব্যবহার করবে, তাতে লাইনটা ভালো চলবে কিনা? কত দিন টিকবে?
আর যদি এই ব্যবসায়ি আপনাকে ভালো কেবল দিয়েও থাকে সেতো এই টাকা আপনার ব্যান্ডউইথ থেকে ম্যানেজ করবে, সে তো ঘর থেকে এনে দিবে না। এরপর আসেন আরেকটা বিষয়ে, না জেনে থাকলে আজ জেনে রাখুন, কাচা বাজার এ যেমন quality এর উপরে নির্ভর করে এক এক দোকানে এক এক রকমের সব্জির দাম, তেমনি আমাদের বাজারেও ব্যান্ডউইথ quality এর উপরে, কাস্টোমার সার্ভিস এর উপরে নির্ভর করে ইন্টারনেট প্যাকেজ এর মুল্য। আপনি কম টাকায় পচা আলু কিনবেন আর বাসায় বউএর সামনে নায়ক সাজার জন্য ব্যবসায়ী দের গালাগালি করবেন, সেটা তো হতে পারে না ভাইজান!
৮। এবার আসেন একটা মজার প্রসংগে, সারা মাস কষ্ট করার পরে যখন বিলের জন্য কাস্টোমারদের ফোন দেই তখন একেক জন কে হারিকেন জালাইয়া খুজতে হয়। ভাগ্যক্রমে ফোন ধরলেও কেউ বলে ১০ তারিখ, কেউ ১৫, কেউ ২০ কেউ আবার মাসের শেষে গিয়ে বলে আগামি মাসে দেব। ভাই, আমরাও কাউকে না কাউকে ব্যান্ডউইথ বিল দেই, নির্দিষ্ট তারিখটা পার হলেই তারা আমাদের ফোন করে, ফোন না ধরেও পারি না, ১/২ বার ফোন না ধরলেই ব্যান্ডউইথ বন্ধ করে দিবে। ফোনটা ধরতেই ভদ্র ভাষায় অমায়িক ভাবে এমন কিছু কথা বলবে যা শোনার পরে ঘৃনায় মায়ের পেটের বাচ্চাও পরে যাবে। আপনাদের বিল না দেয়ার কারনে এসব কথা শুনতে হয়, তখন কেমন সার্ভিস দিতে মন চায়।
এখন ও সময় আছে দয়া করে ভাবুন,,,,,,,
©তানভির আহমেদ শুভ