31/07/2026
১৩ বছর আগের এক্সপেরিয়েন্স শেয়ার করলাম
মার্ক-শিট-ইজম
""""""""""""'
"ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর জোনাকি সবে চলতে শুরু করেছে। হামাগুড়ি দিতে দিতে কখনও উঠে দাঁড়িয়ে পড়ছে, কখনও মুখ থুবড়ে পড়েছে শক্ত মাটিতে। আজ থেকে তেরো বছর আগে, ঢাল নেই তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দার কিভাবে কি নাটক হবে বুঝতে পারা যাচ্ছে না, তখন জোনাকির বেশ কিছু সদ্য নাটক করবো বলে ছুটে আসা উদ্যমী ছেলেমেয়েরা এবং বেশ কিছু পোড়খাওয়া থিয়েটারের মস্তানদের নিয়ে একটা প্রোডাকশন করবো ঠিক করি। কারণ অস্ট্রেলিয়ান একটা সংস্থা "শর্ট এন্ড সুইট" ওরা একটা দশ মিনিটের নাটকের ফেস্টিভ্যাল করাবে কোলকাতায়। E2 studio এর মালিক সুমন সারোগি Howrah Jonaki এর নামটাও সেখানে দিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু রিহার্সাল হবে কোথায়, রিহার্সাল স্পেস ভাড়া করার জন্যও তো মাল কড়ি লাগবে। সেখানেও সুমন জী এগিয়ে এলেন, ওনার ধর্মতলার স্টুডিও সকাল ৭টা থেকে ৯.৩০ টা আড়াই ঘন্টা ফ্রীতে পাওয়া যাবে। সৈকত আর মধুমিতা দি আসবে বেহালা থেকে, অনন্যা আর অর্পিতা আসবে টালিগঞ্জ, মধুরিমা সাইকেল নিয়ে ট্যাংরা থেকে, রণ তরণ পাইকপাড়া, প্রতাপ বাগমারি, শ্রেয়ান বেলঘরিয়া, আমি আর সুপ্রীয় হাওড়া থেকে কিন্তু অরুনাভ আরামবাগ থেকে কিভাবে আসবে, ঠিক হলো ও আগের দিন রাতে এসে আমার বাড়ি থেকে যাবে।
নাটক কি হবে আগে থেকেই ভেবে রেখেছিলাম ২০০৮/৯ সালে 'দ্য আরিয়ান স্কুল' থেকে একটি নন ভারবাল নাটক করেছিলাম টিটিআইএস কম্পিটিশন এর জন্য 'মার্ক-শিট-ইজম' শিক্ষা ব্যবস্থার খিল্লি উড়িয়ে একটি সিম্বলিক প্রোডাকশন। আমার বন্ধু রাজিন্দর পাঞ্চাল একদিন দিল্লি থেকে উড়ে এলো আমার কাছে ওর নাটকের কিছু সরঞ্জাম নিয়ে যাবে কোলকাতা থেকে তাই। সেই সময় ওদের রাষ্ট্রীয় নাট্য বিদ্যালয় কিভাবে পড়াশোনা চলছে কি চলছে শুনলাম, সিম্বলিক ডিজাইন নিয়ে ও সেই রাতে অনেক কিছু বোললো। অনেক রাত অবধি আলোচনা করেছিলাম আমরা। বলতে গেলে ঐ এই প্রযোজনা সম্বন্ধে আমার মাথায় আইডিয়া গুঁজে দিয়ে গেল। সেই প্রোডাকশন সেই বছর ৪০০টা নামি দামি স্কুলের মধ্যে প্রথম হয়েছিল। ঠিক করলাম ঐটেই কোরবো।
সময় সকাল সাতটায় ধর্মতলা, খুব টাফ। প্রথম দিন সকলে টাইমে এলেন। তারপর শুরু হলো বেনিয়ম। কিন্তু মোটামুটি আমার কড়া শাসনে (এখন মনে হয় এগুলো খুব স্থুল, ঐসব অমানবিক কঠোর কঠিন বাক্যবাণ না চালিয়েও নাটক করা যায়) প্রায় মিলিটারি কায়দায় সে নাটক প্রস্তুত হলো। ফাইনালের দিন অ্যালিক পদমসি সে নাটক দেখতে এসেছিলেন, নাটক শেষে তিনি মঞ্চে উঠে এলেন, সমস্ত টিমের সদস্যদের সাথে পরিচয় করলেন এবং নিজেও হ্যামলেটের একটি অংশ পারফর্ম করে ফেললেন, এ এক বড় পাওয়া।
জয়ন্ত কৃপালিনি এই অনুষ্ঠানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছিলেন। ফেস্টিভ্যাল শুরুর আগেই একটা টি পার্টি হয়েছিল পিকাডেলি স্কোয়ারে, সেইদিনেই এই ছবিটি তোলা। পরে এই প্রোডাকশনটি একঘন্টার করা হয়, শেষ শো হয় গোবোরডাঙায় সংস্কৃতি নাট্যদলের আমন্ত্রণ এ দেবেশ দার প্রশ্রয়ে। দীপ এই নাটকে অসামান্য স্কোর তৈরি করেছিল শুধুমাত্র ড্রামসেট ব্যবহার করে। সৌমেন আলো করেছিল খুব মিনিমালিস্ট। অঙ্কুশ, সৌম্যজিৎ, স্বাগতা পরে এসে বেশ কয়েকটি শো করেছিল। আমার অল্পস্বল্প নাট্যকর্মজীবনের এই নাটকটি একটা গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, যখন থেকে আমার চিন্তা ভাবনা অন্যদিকে মোর নিতে শুরু করে। এ নাটক নির্মাণ এই খরচ হয়েছিল প্রায় নয় শো টাকা, বেশ কিছু কল শো করে আমরা সকলে মিলে সামান্য কিছু টাকা পয়সা পেয়েও ছিলাম। এইভাবেই নাটকের অর্থনীতি সম্বন্ধে ধারণা জন্মাচ্ছিল সেই সময়। এই নাটকে অভিনয় করেছেন যাঁরা আমি তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ। তাঁরা শুধু অভিনয়ই করেননি, আমি আমার যে নাট্যভাষ খোঁজার চেষ্টা চালাচ্ছিলাম, তার সাথে এই টিম প্রবল উৎসাহে আমাকে ভরিয়ে দিয়েছিলেন। সকলকে একরাশ ভালোবাসা। ♥️😘🌹"
- বিশ্বজিৎ দাস Biswajit Das