08/02/2026
আমরা অনেক ক্ষতি করে ফেলেছি পৃথিবীর। ভাবুন এইরকম সুন্দর একটা পাখি আপনার আশেপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আপনি যেন এক স্বর্গদ্যানে!
এমন এক অনুভূতির জন্ম দিয়েছে সম্প্রতি ভুটানের আকাশে ডানা মেলা নয়নাভিরাম ‘হিমালয়ান মোনাল’। এই পাখিটিকে দেখলে প্রথমেই মনে হয়, প্রকৃতি যেন তার নিজের হাতে সবটুকু রঙ ঢেলে দিয়ে ক্যানভাসে আঁকা কোনো ছবিকে প্রাণ দিয়েছেন। আধুনিক বিজ্ঞানের ভাষায় একে ‘লোফোফরাস ইম্পেজেনাস’ বলা হলেও, এর পালকের জৌলুস আর রাজকীয় চালচলন একে করে তুলেছে হিমালয়ের জীবন্ত রূপকথা।
নেপালের জাতীয় পাখি এবং ভারতের উত্তরাখণ্ডের রাজ্যপাখি হিসেবে পরিচিত এই বিহঙ্গ কেবল একটি প্রাণী নয়, বরং পাহাড়ী সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। স্থানীয়রা একে ভালোবেসে ডাকে ‘ড্যানফে’; বিশ্বাস করা হয়, হিমালয়ের আদিম নির্জনতায় যখন মানুষের পা পড়েনি, তখন থেকেই এই পাখিটি প্রকৃতির পাহারাদার হয়ে বেঁচে আছে।
প্রাচীন ভারতবর্ষের দৃষ্টিতে তাকালে মনে হবে, এই পাখি যেন মর্ত্যের জীব নয়, বরং দেবলোক থেকে নেমে আসা কোনো গন্ধর্ব বা কিন্নর, যারা রূপ পরিবর্তন করে পাখির বেশ ধরেছে। এর পালকে নীল, সবুজ, তামাটে, বেগুনি আর সোনালী রঙের যে ধাতব দীপ্তি খেলে যায়, তা দেখে প্রাচীন ঋষিরা হয়তো একে ‘অগ্নিবর্ণা’ বা সূর্যের আশীর্বাদপুষ্ট বলে মনে করতেন। পুরুষ মোনালের মাথার ওপরের ঝুটিটি যেন কোনো রাজমুকুট, যা তাকে বনের অন্য সব পাখির চেয়ে আলাদা এক আভিজাত্য দিয়েছে।
লেডি ইম্পে নামের এক ব্রিটিশ নারী অষ্টাদশ শতাব্দীতে একে পশ্চিমা বিশ্বের কাছে পরিচয় করিয়ে দিলেও, হিমালয়ের কোলে এর ইতিহাস হাজার বছরের পুরনো। এই পাখি যখন বরফের চাদরে ঢাকা পাহাড়ের ঢালে খাবার খুঁজে বেড়ায় কিংবা প্রবল শক্তিতে ডানা মেলে শূন্যে ভাসে, তখন তার সেই কর্কশ অথচ তীক্ষ্ণ ডাক উপত্যকার নিস্তব্ধতা ভেঙে এক অদ্ভুত বন্য সুরের সৃষ্টি করে।
আজকের এই যান্ত্রিক যুগে, যখন আমরা কংক্রিটের জঙ্গলে বন্দি, তখন এই মোনালের অস্তিত্ব আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে পৃথিবীটা একসময় কতটা সুন্দর ছিল।
___এলিন