25/08/2026
গণহত্যা বলতে সাধারণত আমরা বুঝি বোমা, গুলি, ধ্বংসস্তূপ।
কিন্তু একটা জাতিকে নিশ্চিহ্ন করার আরেকটা পথও আছে, যেটা চোখে সহজে পড়ে না। সেটা হলো, তার ভবিষ্যৎ প্রজন্মটাকেই আসতে না দেওয়া।
গাজায় ঠিক এই দ্বিতীয় পথটাও একসাথে চলছে বলে দাবি করেছেন গবেষক মেহমেত রাকিপওগলু।
তিনি এটাকে নাম দিয়েছেন "প্রজনন গণহত্যা" বা "রিপ্রোসাইড"।
সহজ ভাষায় বললে, এর মানে হলো, একটা জনগোষ্ঠীর সন্তান জন্ম দেওয়ার ক্ষমতা, মায়ের স্বাস্থ্য, আর নতুন প্রজন্মের বেঁচে থাকার সুযোগটাকেই পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে দেওয়া।
এই ধ্বংসযজ্ঞ দাঁড়িয়ে আছে তিনটা স্তম্ভের ওপর।
এক, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ধ্বংস করা। দুই, পরিবেশকে বিষাক্ত করে তোলা। তিন, যৌন সহিংসতার মাধ্যমে মানুষের শরীরের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা।
একে একে দেখা যাক, প্রতিটা স্তম্ভ আসলে কী বলছে।
প্রথম স্তম্ভ—মাতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু বানানো।
গাজায় দীর্ঘদিন ধরেই অবরোধ চলছিল। কিন্তু ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর মাতৃস্বাস্থ্য অবকাঠামোর ওপর হামলা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি হয়েছে।
সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাটা ঘটে আল-বাসমা নামের একটা আইভিএফ (কৃত্রিম প্রজনন) কেন্দ্রে। সেই একটামাত্র হামলায় নষ্ট হয়ে যায় প্রায় চার হাজার ভ্রূণ, আর এক হাজারেরও বেশি শুক্রাণু-ডিম্বাণুর নমুনা।
এটা নিছক একটা চিকিৎসাকেন্দ্র ধ্বংস হওয়া না। এটা একটা প্রতীক—ভবিষ্যতের যে সম্ভাবনাগুলো এখনো জন্মই নেয়নি, সেগুলোকেও মুছে দেওয়া।
একই সময়ে গাজার প্রসূতি হাসপাতাল, নবজাতকদের বিশেষ পরিচর্যা কেন্দ্র, নারী স্বাস্থ্যক্লিনিক, সবকিছু একে একে অকেজো হয়ে পড়ে। ফল দাঁড়ায় ভয়াবহ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য বলছে, গাজায় প্রতিদিন প্রায় ১৮০ জন নারী সন্তান জন্ম দেন, তাঁদের অন্তত ১৫ শতাংশই গুরুতর জটিলতায় পড়েন। অথচ অজ্ঞান করার ওষুধ, রক্ত দেওয়ার সরঞ্জাম, নবজাতকের ইনকিউবেটর—এসব মৌলিক জিনিসই প্রায় শেষ হয়ে গেছে, বা অবরোধের কারণে পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব।
কিছু নারীকে অজ্ঞান করার ওষুধ ছাড়াই সিজারিয়ান অপারেশন করতে হয়েছে। কারও কারও জীবন বাঁচাতে জরায়ুই ফেলে দিতে হয়েছে, মানে তাঁরা চিরদিনের জন্য সন্তান জন্ম দেওয়ার ক্ষমতা হারিয়েছেন।
এটাকে শুধু চিকিৎসা-বিপর্যয় বললে ভুল হবে। এটা একটা নিয়ন্ত্রণ-ব্যবস্থা, যেখানে দখলদার শক্তি কার্যত ঠিক করে দিচ্ছে কে সন্তান জন্ম দেবে, কখন দেবে, নাকি আদৌ দেবে না।
দ্বিতীয়