06/01/2026
ভেনেজুয়েলা: একটি স্বাধীন রাষ্ট্র দখলের নেপথ্য কারণ‼️
পৃথিবীতে ২০০ এর মতো দেশ আছে৷ জাতিসংঘের মতে ১৯৫টা দেশ৷ এর মধ্যে ৬০টার মতো দেশে কম বেশি তেল পাওয়া যায়৷ এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সৌদি আরব, ইরান, ইরাক, কুয়েত, কাতার, লিবিয়া, নাইজেরিয়া, আলজেরিয়া, আরব আমিরাত, রাশিয়া এবং বাকি অন্যান্য আরও কিছু দেশ আছে যাদের তেল আছে৷ এদের সবার কাছে সম্মিলিতভাবে বিশ্বের মোট তেলের ৮২% আছে৷ অন্যদিকে বিশ্বের মোট তেলের ১৮% একাই আছে ছোট্ট এই লাল ভূখন্ডটাতে৷ যেখানে ৬০ দেশ মিলিয়ে ৮২% আর এদের একার কাছেই আছে ১৮%৷ তেলের দিক থেকে এদের ধারে কাছেও কেউ নেই৷ তেলের বাজারে বিশ্বে সবচেয়ে পরিচিত যে মুখ সেই সৌদি আরবের কাছে আছে ২৬৭ বিলিয়ন ব্যারেল তেল৷ আর এই ভূখণ্ডে আছে ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল। ভাবা যায়!
শুধু তাই নয়৷ তেল ছাড়া এই ভূখণ্ডে আছে :
১৬০ টনের মতো স্বর্ণ (কেন্দ্রীয় ব্যাংক আর খনিজ সম্পদ মিলিয়ে)৷ সারাবিশ্বে মোট স্বর্নের হিসাবে ৩০-৪০ তম৷
এছাড়াও সারাবিশ্বের মোট আইরনের (লোহা) ৫% আছে এই ভূখণ্ডে৷
এছাড়াও হীরা, বক্সাইট, ইউরেনিয়ামের মতো মূল্যবান খনিজসম্পদেরও মজুত আছে এই ভূখণ্ডে৷ বুঝতেই পারছেন খনিজ সম্পদের দিক থেকে কতটা রিচ তারা৷ ভূখন্ডটির নাম ভেনেজুয়েলা৷
সম্প্রতি সারাবিশ্বের গনতন্ত্রের রক্ষাকর্তা আমেরিকা দেশটির উপর হামলা চালিয়ছে৷ আমেরিকা অভিযোগ এনেছে ভেনেজুয়েলার মাধ্যমে মাদক আমেরিকায় ঢুকে। যার কারনে আমেরিকার পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে৷ ভেনেজুয়েলার রাজধানী এমনকি তাদের প্রধান বিমানবন্দরেও হামলা চালিয়েছে আমেরিকা৷
ভেনেজুয়েলার ভূখণ্ডে ঢুকে তাদের প্রেসিডেন্টকে তুলে নিয়ে গিয়েছে আমেরিকার ডেল্টা ফোর্স৷ তাকে ক্রিমিনাল আখ্যা দেওয়া হয়েছে৷ এবং আমেরিকার আদালতেই তার বিচার হবে, আমেরিকার আদালতই তাকে শাস্তি দিবে৷
এটা কেমন গণতন্ত্র?
যে অভিযোগ আনলো সে'ই আটক করলো, তার আদালতই বিচার করবে, তার আদালতই নাকি আবার শাস্তি দিবে৷ এদিকে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছে আপাতত ভেনেজুয়েলাকে আমরা চালাবো৷ সোজা কথা- একটা দেশকে দখল করার পর এই দেশ এখন আমার সাম্রাজ্যের অংশ এমন ঘোষণা দিয়ে দিলো৷ আসলে এসব অভিযোগ কিছুই না৷ আমেরিকার আসলে নজর পড়েছে ভেনেজুয়েলার খনিজ সম্পদের উপর৷ এর আগেও খনিজ সম্পদে ভরপুর এমন অনেক দেশের উপর আমেরিকা হস্তক্ষেপ গ্রহণ করেছে গনতন্ত্র আর স্বাধীনতার দোহাই দিয়ে৷
একটা স্বাধীন সার্বভৌম দেশের ভূখণ্ডে ঢুকে সেই দেশের প্রেসিডেন্টকে তুলে নিয়ে যাওয়া কোনো সুস্থ গনতান্ত্রিক ধারার প্রকাশ হতে পারে না৷ অথচ অন্য কোনো দেশ যদি কাউকে ভুল করে একটা ফুলের টোকাও দেয় তাহলে এরাই আবার সেই দেশকে গিয়ে গনতন্ত্রের ক,খ শিখিয়ে দিয়ে আসে৷
[সংগৃহীত]